মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ নভেম্বর ২০২০

মহাপরিচালকের জীবন বৃত্তান্ত

ড. মোঃ শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ

ড. মোঃ শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্য এবং সরকারের অতিরিক্ত সচিব। তিনি ২৩ জুলাই ১৯৬৩ খ্রিঃ ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার অন্তর্গত সূয়াপুর ইউনিয়নস্থ বেটুয়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ খ্রিঃ সূয়াপুর নান্নার উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক এবং ১৯৮১ খ্রিঃ মানিকগঞ্জস্থ সরকারি দেবেন্দ্র মহাবিদ্যালয় হতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অত:পর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে ১৯৮১-৮৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে সম্মানসহ স্নাতক ও ১৯৮৪-৮৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বিসিএস ১৯৮৬ ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য হিসেবে ২০ ডিসেম্বর ১৯৮৯ খ্রিঃ সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন।

 

তিনি শৈশবকাল থেকেই এলাকায় মেধাবী ছাত্র হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন এবং জীবনের সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তা সুপ্রমাণিত হয়েছে। স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অর্জনের পাশাপাশি ৮ম  বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারের মেধাক্রমে তিনি ৩য় স্থান অর্জন করেন। পেশাগত প্রশিক্ষণসমূহেও তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখে আইন ও প্রশাসন কোর্স এবং উচ্চতর আইন ও প্রশাসন কোর্স উভয়ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থান অর্জন করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, মেধাক্রমে অবস্থান ও প্রশিক্ষণে অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে চাকুরিজীবনের প্রাথমিক পর্যায়েই তিনি বিসিএস (প্রশাসন) একাডেমিতে অনুষদ সদস্য (সহকারি পরিচালক) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। উক্ত একাডেমিতে নিয়োজিত থাকাকালীন তিনি ভারত সরকার প্রদত্ত আইসিসিআর শিক্ষাবৃত্তি লাভ করেন। সেসূত্রে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গস্থ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান বিভাগে ১৯৯৬ খ্রিঃ রিসার্চ স্কলার হিসেবে যোগদান করেন। অতঃপর প্রখ্যাত নৃতাত্ত্বিক শেখ রহিম মন্ডলের অধীনে 'শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান নারী সমাজের  তুলনামূলক অবস্থান, সমস্যা ও সম্ভাবনা'- এ বিষয়ে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ খ্রিঃ উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানে  পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।  ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইউএনডিপি'র স্পন্সরশীপে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি হতে কৃতিত্বের সাথে পোস্টগ্রাজুয়েট সার্টিফিকেট  ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটিতে স্বল্পমেয়াদি ‘PROFESSIONAL DEVELOPMENT PROGRAM’- সম্পন্ন করেছেন এবং ‘পাবলিক পাইভেট পার্টনারশীপ’ বিষয়ে ইতালীর আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র(ITC) আয়োজিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।  

 

সার্ভিসে মোঃ শাহাদৎ হোসেন মাহমুদের শিক্ষানবিসিকাল কেটেছে রংপুর কালেক্টরেটে সহকারি কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। এ পদে তাঁর কর্মকাল ছিলো তিন বছর। এর বাইরে মাঠ প্রশাসনে তিনি সহকারি কমিশনার (ভূমি) পদে দুই বছর এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে তিন বছর দায়িত্বপালন করেছেন।  বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্য হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করলেও নারী শিক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অর্জিত প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ও লব্ধ অভিজ্ঞতা তাঁকে ‘এক্সপার্ট ইন জেন্ডার ইস্যু এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ হিসেবেই অধিকতর সমাদৃত করেছে। যার সুবাদে তিনি লিয়েনে ইউএনডিপি'র সিডিএমপি-১ প্রকল্পে National Expert: Livelihood Security and Hazard Awareness পদে তিন বছর এবং সিডিএমপি-২ প্রকল্পে Rural Risk Reduction Specialist পদে তিন বছর কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

 

তিনি জাতীয় জীবনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সকল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে  অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। গ্রামীণ জনজীবনে দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাসে বিভিন্ন কৌশলপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নেও তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সার্ভিসে দীর্ঘ সময় তিনি বিসিএস (প্রশাসন) একাডেমি, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) এসব শীর্ষস্থানীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহে অনুষদ সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।  তিনি রিসোর্স পার্সন হিসেবে আইন ও প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আপদ অভিযোজন, নেতৃত্ব ও টিম বিল্ডিং, জেন্ডার উন্নয়ন, শুদ্ধাচার ও সুশাসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, ইতিবাচক মনোভাব সৃজন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ, উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা ও শিল্প উন্নয়ন, নিরন্তর উন্নয়ন (কাইজেন), ফাইভ এস, সিক্স সিগমা, উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা, অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষানীতি, শিল্পনীতি, স্বাস্থ্যনীতি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অর্থায়ন কৌশল ও বিভিন্নমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অনুসরণীয় আইনকানুন ও বিধিবিধান, এটিকেটস, ম্যানারস ও প্রটোকল ইত্যাকার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসোর্স পার্সন/অতিথি বক্তা হিসেবে সেশন পরিচালনা করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সমসাময়িক আর্থসামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে আলোচক হিসেবে এবং সেমিনার ও কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য হিসেবে অবদান রেখে যাচ্ছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষকতায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থী কিংবা ক্ষেত্রমতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইটালী, জার্মানী ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন। বাংলাদেশে লিঙ্গ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন, শুদ্ধাচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ অভিযোজন,  আমলাতন্ত্র ও সিভিল প্রশাসন, উৎপাদনশীলতা ও শিল্প উন্নয়ন ইত্যাকার বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর বেশ কয়েকটি গবেষণাধর্মী ও বিশ্লেষণমূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। 

 

তিনি বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএসটিডি), এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এপিও), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন (ডিইউএএ), সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এলামনাই এসোসিয়েশন (এসডব্লিউএএ)-এর আজীবন সদস্য। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাদার সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।  তিনি শেরেবাংলা নগর লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানেও উক্ত ক্লাবের একজন অন্যতম পরিচালক। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি গ্রামীণ সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, যিনি গ্রাম বাংলাকে প্রত্যক্ষ করেছেন প্রগার মমতায়।'৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমর প্রত্যক্ষ না করলেও মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়ায় স্বাধীনতাবিরোধীদের রোষানলে পড়ে আত্মরক্ষার্থে তাঁর পরিবারকে যুদ্ধকালীন অনেকটা সময় নিজের এলাকার বাইরে অন্যত্র  দূর সম্পর্কের আত্মীয়স্বজনের বাড়ীতে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। তিনি মাত্র আট বছর বয়সী বালকের মনন ও অনুভব দিয়ে সেসব দিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করলেও তাঁর স্মৃতিতে আজো তা ধ্রুবতাঁরার মতো অমলিন। তাঁর প্রত্যাশার ক্যানভাসে তাইতো  মূর্ত হয়ে উঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাদীপ্ত ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নত বাংলাদেশের সংগ্রামী জনজীবনের হাস্যজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। তিনি স্বপ্ন দেখেন অজ্ঞতা-মলিনতা-আলস্য-বেকারত্ব-দারিদ্র‍্য বিবর্জিত সোনার বাংলার শস্যভরা সবুজ প্রান্তর, সুখ-সমৃদ্ধি-প্রগতির রোল মডেল হিসেবে উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশের অবিচল অগ্রযাত্রা।

 

গত ১০ জুলাই, ২০১৮ মহাপরিচালক হিসেবে তিনি যোগদান করেছেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে, যার মূল দায়িত্ব হচ্ছে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের নিকট নীতি নির্ধারণী পরামর্শ উপস্থাপন করা। একজন নিবেদিতপ্রাণ সুশীলসেবক হিসেবে প্রাণের আকুতি থেকেই তিনি এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জাতীয় অগ্রযাত্রায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চান। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে চান পরিকল্পনা গ্রহণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে তিনি সকল সহকর্মী ও অংশীজনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

 


Share with :

Facebook Facebook